৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা করায় প্রাণনাশের হুমকি

News

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সন্ত্রাসী হামলায় মামলা করায় প্রাণ নাশের হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বাদী ও তার পরিবার। গত ৫ অক্টোবর বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সোতাশী গ্রামে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সন্ত্রাসি হামলায় গুরুত্বর আহত হন মাদক বিরোধী সিভিল বিগ্রেটের সদস্য মোঃ ইকরাম শেখ। সন্ত্রাসীদের ধারলো অস্ত্রের আঘাতে গুরুত্বর আহত হন ঐ মাদক বিরোধী সিভিল বিগ্রেট সদস্য। দেশীও অস্ত্র ও হাতুড়ীর পিটায় তার একটি পা প্রায় পঙ্গু। এ ঘটনায় ইকরাম শেখের স্ত্রী মোছাঃ পিয়ারী বেগম ২৫ অক্টোবর বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকেই বিভিন্নভাবে বাদী ও তার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা, গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট এমন অভিযোগ করেছে মামলাটির বাদী। মামলা সুত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার বোয়ালমারী ইউনিয়নের সোতাশী গ্রামের একাধিক মাদক মামলার আসামী, ইউপি সদস্য মতি কাজীর বিপক্ষে বিগত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বাদীর স্বামী ইকরাম শেখের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে রেশারেশি চলে আসছিল মতি কাজীর। যার প্রেক্ষিতে ইউপি সদস্য মতি কাজী বিভিন্ন সময় ইকরাম শেখের প্রাণ নাশের চেষ্টা চালায়। সম্প্রতি ইকরাম শেখ স্থানীয় যুব সমাজকে নিয়ে উপজেলা মাদক বিরোধী সিভিল বিগ্রেটের একটি কমিটি গঠন করে বোয়ালমারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডকে মাদক মুক্ত করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখে। এতে মতি কাজী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে ইকরাম শেখকে সৈয়দপুর বাজার হতে রাত ৯ টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পথিমধ্যে তাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্রে-স্বস্ত্রে সর্জ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী হামলা করে। এতে মারাত্মক আহত হন ইকরাম শেখ। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ির পিটায় বাম পায়ের দুটি হাড় ভেঙ্গে যায় ও শরীরের নানা স্থানে রক্তাক্ত জখম হয় ইকরাম। এ সময় তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোক এসে তাকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে। এঘটনায় মতি কাজীসহ ৮জনকে আসামী করে মামলা করলে সোতাশী গ্রামের দাউদ কাজীর ছেলে জামাল কাজী (৪২) কে গ্রেফতার করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকেই পালাতক মতি কাজী বিভিন্নভাবে মামলাটি তুলে নিতে চাপ সৃষ্টিসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে জানান ইকরাম শেখ। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সদস্য মতি কাজী মোবাইল ফোনে বলেন, মামলা উঠিয়ে নিতে বা প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ মিথ্যা। স্থানীয় রাজনীতিতে ইকরাম আমার প্রতিদ্বন্দী। সেই আক্রোশে আমাকে হেনেস্তা করতে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে চেষ্টা করে ইকরাম। এ সংবাদ জানতে পেরে আমার কয়েকজন সমর্থক বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে সে অস্বীকার করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে। এ সময় সে দৌঁড়িয়ে পালতে গেলে পড়ে গিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়। তবে ইকরামের উপর সন্ত্রাসী হামলা করার বিষয় অস্বীকার করেন তিনি। বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, এ মামলায় একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মতি কাজীর বিরুদ্ধে পূর্বে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৭ জুলাই একটি মাদক মামলায় সে র‌্যাবের হাতে আটক হয়। বর্তমানে সে জামিনে আছে।

     এ জাতীয় আরো সংবাদ