৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মধুখালিতে সড়ক নির্মাণের কাজে চলছে লাগামহীন দূর্নীতি

News

ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে জেলার মধুখালী উপজেলা হতে জামালপুর রাস্তার উন্নয়নের কাজে ধীরগতি ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি অর্থবছরের  মধুখালী উপজেলা হতে জামালপুর বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। গোপালগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর হাবিবুল ইসলাম ও সরদার এন্টারপ্রাইজ জেভি নির্মান কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে।

এলাকাবাসির অভিযোগ , বহু বছরের পচা ইট ও রাস্তার পুরাতন বালু এবং রাবিশ ইট ভেঙ্গে খোয়া তৈরী করে রাস্তার সাববেজে দেওয়া হচ্ছে ।এছাড়া পুরাতন রাস্তার কার্পেটিং তুলে খোয়ার সাথে মিশিয়ে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে।নিয়ম অনুযায়ী ৫০% বালু ৫০% ১নং ইটের খোয়া সংমিশ্রন করে সাববেজ করার কথা থাকলেও ৭৫-৮০ ভাগ বালু/কাদা মাটি দিয়ে তার উপর নিম্নমানের ৩নং ইটের খোয়া ছিটিয়ে সাব বেজের কাজ চলমান রয়েছে।  রাস্তার সাববেজে ২ এফএম উন্নতমানের বালি ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটি কাদাযুক্ত নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে ।ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মধ্যে দিয়ে ধীর গতিতে কাজ এগিয়ে চলছে যা দেখার কেউ নেই।

তাছাড়া নির্মান সামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখায় এবং রাস্তা নির্মানে বিলম্বিত হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে বলে ভুক্তভোগি এলাকাবাসিরা জানান। এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে জনগণের সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাজের শুরুতে বালুর পরিবর্তে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে রাস্তায় কাদা মাটি ব্যবহার করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান। থেমে থেমে কাজ করা ও ধীরগতিতে কাজ এগিয়ে যাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

যে মুহুর্ত্বে বাংলাদেশ সরকার সারাদেশের রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট,স্কুল, কালেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা উন্নয়নে অভূতপুর্ন ভূমিকা রাখছেন, ঠিক সেই মুহুর্তে কতিপয় অসাধু ঠিকাদারের অনিয়ম দূর্নীতির কারণে এসব নির্মান কাজ নিম্নমানের হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোঃ নুরু মণ্ডল।

এদিকে এলাকাবাসি ক্ষুদ্ব হয়ে বলেন, এসব দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারের কারণে রাস্তাঘাট ড্রেন, কালভার্টসহ উন্নয়ন কাজগুলো কিছুদিন যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগ সন্ধানী কতিপয় ঠিকাদারদের কারণে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে অপর দিকে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে সওজ ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৗশলী নাকিবুল ইসলাম জানান,চলতি বছরের মে মাসে এই প্রতিষ্ঠান দ্বয়কে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এর পূর্বে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যত্রতত্র মালামাল রাখার ব্যপারে সতর্ক করেছি। যে অভিযোগগুলো উঠেছে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। এই রাস্তার কাজ বাবদ পূর্বের পুরাতন ইট কাজে লাগানোর জন্য কাজ শেষে নির্ধারিত করা হয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা যাহা সমদয় বিলের টাকা থেকে কর্তন করা হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবের কাছে রাস্তার উন্নয়ন কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমি ঠিকাদারের চাকুরি করি। তার কথা মত রাস্তার কাজ করে যাচ্ছি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটিযুক্ত নিম্নমানের বালু , বহু বছরের পুরাতন ইট, নিম্ন মানের ২ ও ৩ নাম্বার ইট রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।পুরাতন রাস্তার কর্পেটিং তুলে তা ব্যবহার করছে ।যত্রতত্র মালামাল স্তুপ করে  রাখা হয়েছে।

এবিষয়ে মধুখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর্জা মনিরুজ্জামান বাচচু বলেন, আমি ইতিমধ্যে এই অভিযোগ পেয়েছি।আজই আমি সরজমিনে গিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নাছিমের সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি জানান , হয়ত কিছু কিছু স্থানে ভুল বশত কাজের মান খারাপ হয়েছে। সাববেজে অনেক স্থানে পুরাতন কার্পেটিং এর অংশ ব্যবহার হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন আর হবে না।

     এ জাতীয় আরো সংবাদ