২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ফরিদপুরে অভিভাবকহীন বিএনপি

News

দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন কর্মকান্ড নেই ফরিদপুর জেলা বিএনপির। বিগত কয়েক বছর ধরে দলের নেতারা নিস্ক্রিয় থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে তৃনমূল পর্যায়ে। সরকার বিরোধী কিংবা দলীয় চেয়ারপারসর্নের মুক্তির আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে জেলা বিএনপির কমিটি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেবার কথা জানান। একই সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি আহবায়ক কমিটি করারও কথা বলা হয়। কিন্তু ১ মাস পেরিয়ে গেলেও আহবায়ক কমিটি গঠন না হওয়ায় চরম হতাশা বিরাজ করছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে। বর্তমানে ফরিদপুর জেলা বিএনপি অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। ১ মাস পেরিয়ে গেলেও আহবায়ক কমিটি না হবার পেছনে দলীয় কোন্দল কাজ করছে বলে জানা গেছে। ফরিদপুর জেলা বিএনপি একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। দলটির জেলা কমিটির সদ্য সাবেক সভাপতি একদিকে এবং সাবেক সাধারন সম্পাদক রয়েছেন অন্যদিকে। কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ন পদে থাকা জেলার নেতাদের দ্বন্ধের কারনে সহসাই আহবায়ক কমিটি হচ্ছেনা এমনটি জানা গেছে। বর্তমানে জেলা কমিটির পদ পেতে নেতারা ঢাকায় বসে তদ্বির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে নেতারা ততটা সচেষ্ট নয়, যতটা দলের পদ পেতে নিজেরা শো-ডাউন করছেন। তৃনমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত দলের সম্মেলন না হওয়ায় এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত না হওয়ায় জেলা বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে পকেট কমিটি করায় সেই কমিটি পূরন করা হয়েছে অযোগ্য এবং সুবিধাবাদীদের নিয়ে। ফলে রাজপথে যারা ত্যাগী ও ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে আসছেন তারা দলের কোন পদে নেই। যার কারনে রাজপথের আন্দোলনে বিগত দিনে বিএনপি কোন সফলতা পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের পদ দেওয়ার কারনে অনেকেই দল ছেড়েছেন। কেউবা রাজনীতি থেকে দুরে সরে রয়েছেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন দলের সিনিয়র ও জুনিয়র নেতারা। এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে এমনটি মনে করে দলের কর্মীরা উৎফুল্ল হলেও এখন তাদের মনে শংকা দেখা দিয়েছে ভোটের মাধ্যমে কমিটি হওয়া নিয়ে। বিএনপির সিনিয়র কয়েক নেতা অভিযোগ করে জানান, দলের পরীক্ষিত নেতারা দলের কোন পদ না পেলেও বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকে কাজ করেছেন। ফলে তাদের উপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন নেমে এসেছে। যারা বিগত দিনে সরকারী দলের ছত্রছায়ায় থেকে রাজনীতি করেছেন, কেউবা ব্যবসা বাণিজ্য করে নিজেদের আখের ঘুচিয়ে নিয়েছেন তারা এখন পদ পেতে ঢাকায় বসে লবিং তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত দিনে যেভাবে পকেট কমিটি হয়েছে সেভাবে এবার কমিটি হলে তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা কোন ভাবেই মানবেন না এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলা বিএনপির সাবেক এক প্রভাবশালী নেতা জানান, দলের মধ্যে ঘাঁপটি মেরে থাকা একটি চক্র নিজেদের মতো করে পকেট কমিটি করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ফের পকেট কমিটি হলে একসময়ে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ফরিদপুরে বিএনপি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে।
বিএনপির আহবায়ক কমিটি কবে নাগাদ হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক হওয়া নেতাদের কেউই।

     এ জাতীয় আরো সংবাদ

ফেজবুকে আমরা