২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

দিনটি অনেক বেদনার

News
dav

আজ ২৮ জুলাই। জীবনের সবচেয়ে কষ্টের একটি দিন। শুধু আজকের এই দিনটিই নয়, এ মাসটিও আমাদের পরিবারের জন্য বড় কষ্টের, অনেক বেদনার। ২৮ জুলাই আজকের এই দিনে হারিয়েছিলাম আমার শ্রদ্ধেয় ‘বাবা’কে। এ মাসের ৯ তারিখে আমাদের কাঁদিয়ে, এতিম করে চলে গেলেন আমার মমতাময়ী ‘মা’। বাবা-মা’কে হারিয়ে যেন সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছি। বাবাকে যখন হারিয়ে ছিলাম তখন বুকের মধ্যে ব্যাথাটা ‘চিনচিন’ করে উঠতো মাঝে মধ্যে। যখন কোন কারনে মন খারাপ হতো, বাবা’র কথা অনেক বেশী মনে পড়তো। বাবা’র কথা মনে করে নির্জনে একাকি কেঁদেছি অনেকবার। ‘বাবা’ নেই একথাটি মনে হলেই চোখের কোনে অশ্রু জমা হতো। সে অশ্রু কখনো চোখ গড়িয়ে মাটিতে পড়েছে। কখনো চোখের কোনেই জমা রয়ে গেছে। যখন মন খারাপ হয়েছে ‘বাবা’র সাথে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মনের অজান্তে ভেসে উঠেছে মনের গহিনে। বাবা’র সাথে নানা রঙের দিন গুলোর স্মৃতি মনে হতেই বুকের ভেতরটা ‘হাহাকার’ করে উঠে। বাবা নেই ভাবতেই যেন কষ্ট হয়। বাবা’র শাষনমাখা কথা গুলো যেমনি মনে পড়ে, তেমনি ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখা স্মৃতিগুলো এখনও জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠে। ‘বাবা’ যখন ফজর নামাজের জন্য আমাকে এবং অন্য ভাইদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে মসজিদে নিয়ে যেতেন। মসজিদে যাবার আগে ‘বাবা’র পেছন থেকে কতদিন যে পালিয়ে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়েছি তার হিসেব নেই। সেইসব দিন গুলো খুব মনে পড়ে। কত আবদার নিয়ে ‘বাবা’কে জ্বালাতন করেছি তার ইয়ত্তা নেই। অনেক সময় ‘বাবা’কে নানা কারনে ভুল বুঝেছি। এখন মনে হয় সেই ভুলবোঝা গুলো শুধুই ভুল ছিল। প্রায় সময়ই ‘বাবা’ বলতেন, কখনো নামাজ বাদ দিবেনা। কারো সাথে অন্যায় আচরন করবেনা। কাউকে অনর্থক কষ্ট দেবেনা। সেইসময় মনে হতো, শিক্ষক বলেই কি তিনি আমাদের উপদেশ দিবেন। অনেক সময় ‘বাবা’র উপর রাগ হতো। সেই রাগের কথা গুলো মা’কে বলে মন খারাপ করে বসে থাকতাম। এখন মনে হয়, ‘বাবা’ রাগ করে যদি বলতেন, এটা করিনি কেন, মসজিদে যাইনি কেন, নিজের কাজ গুলো নিজে করিনি কেন। তাহলে মনটা খুশিতে ভড়ে যেতো। বাবা’র সেই শাষনের সুর কিংবা আদরমাখা শ্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি ক’বছর আগেই। আর এ মাসেই মা আমাদের উপর যেন অভিমান করেই চলে গেলেন। গত মাসে হটাৎ করেই মা বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল। ঢাকায় বেশ কয়েকবার চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে ছিলেন। অসুস্থ্য হয়ে ঢাকায় থাকার পরও ‘মা’ ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছেন। ছেলেটার খোঁজ নিয়েছেন। ফরিদপুরে আসার পরও মা’র সাথে অনেক কথা হয়েছে। মা কখনো বুঝতে দেননি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। শরীরে অনেক কষ্ট থাকলেও আমরা ভাই-বোনেরা যাতে কষ্ট না পাই তার জন্য তিনি তেমন কিছুই বলতেন না। সবসময় মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করতেন। হঠাৎ করেই মা চলে গেলেন। মায়ের আকস্মিক এ চলে যাওয়া আমাকে একেবারেই অন্যরকম করে দিয়েছে। এখন আর কোন কিছুই ভালো লাগেনা। বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাও নেই। আবদার করে আর বলা হবেনা, মা’ তোমার হাতের রান্না করা খিচুরী, কিংবা সেমাই খাবো’। বাবা’কে হারিয়ে বুকের মাঝে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, মা’কে হারিয়ে যেন পৃথিবীর সবকিছুই হারিয়েছি। মাথার উপর যে ‘ছায়া’ ছিল, সেটা এখন আর নেই। বাবা-মা যতদিন জীবিত ছিলেন কেন যেন মনে হতো, কখনোই বিপদে পড়বোনা। এখন সবসময় মনে হয়, খারাপ সময় গুলো মনে হয় শুরু হয়ে গেল। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, হে রাব্বুল আলামিন আপনি আমার বাবা-মা’কে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন-আর আমাদের সবাইকে আপনার নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক দান করুন-আমিন। সবার কাছে আমার মা-বাবা’র জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইলো।
কামরুজ্জামান সোহেল।
২৮ জুলাই, রবিবার-২০১৯।

     এ জাতীয় আরো সংবাদ

ফেজবুকে আমরা