৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ঝিলটুলীর ঝিলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টে বহাল

News

ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ণ ঝিলটুলীর ঝিল ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য নি¤œ আদালতের দেয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত। আগামী ৬ মাসের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহালের এ আদেশ দেয়ার পাশপাশি কেনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবেনা সে ব্যাপারে রাজেন্দ্র কলেজ অধ্যক্ষকে কারণ দর্শাতে রুল জারি করা হয়েছে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে এ কারণ দর্শানোর রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের (সিভিল রিভিশনাল জুরিসডিকশন) বিচারপতি একেএম শহিদুল হক গত ৪ নভেম্বর শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। মামলার বাদি নিতাই চন্দ্র রায় ও অন্যান্যদের পক্ষে আদালতে শুনানীতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুল এহসান।
এদিকে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহালের খবর জানার পরেও সেখানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তড়িঘড়ি করে ঝিলের পূর্ব দিকে বাউন্ডারী নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বাউন্ডারী দেয়ালের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে বেড (মাটি) কেটে রাতারাতি দেয়ালের নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ মিস্ত্রীরা জানান, রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্ররা এসে তাদেরকে কাজ করতে বলে গেছে।
মামলার বাদি নিতাই চন্দ্র রায় ও আসিকুল হক অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশের নকল তারা ফরিদপুরের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দিয়ে এসেছেন। রাজেন্দ্র কলেজ অধ্যক্ষকে এ আদেশের নকল দিতে গেলে তিনি লিখিতভাবে সেই আদেশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। উচ্চ আদালদের নিষেধাজ্ঞা জেনেও তিনি ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে অবৈধভাবে কাজ করছেন।
এব্যাপারে রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাউন্ডারী নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে এই প্রতিবেদকের নিকট দাবি করেন যে, উচ্চ আদালতের এ সংক্রান্ত আদেশের কোন নকল তিনি পাননি।
প্রসঙ্গত, শহরের ঝিলটুলীতে ফরিদপুর মৌজার আরএস ৯৪৯ নং দাগে এই ঝিলের মালিকানা নিয়ে ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মোকদ্দমা চলছে। এ মামলার বাদি রাজেন্দ্র কলেজ অধ্যক্ষ আর বিবাদীরা হলেন জনৈক নিরঞ্জন রায় ও আসিকুল হক সহ অন্যান্যরা।
বিচারাধীন ওই মোকদ্দমাটির নিস্পত্তি হওয়ার আগেই রাজেন্দ্র কলেজের জন্য ফরিদপুরের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঝিলটি ভরাট কাজ শুরু করলে ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চলমান কাজের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। গত ১০ অক্টোবর জেলা জজ মোঃ সেলিম মিয়া একতরফা শুনানী শেষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ দেন। এ প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন সংক্ষুব্ধ পক্ষ। শহরের পানি নিস্কাশনের এই জলপথটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

     এ জাতীয় আরো সংবাদ